আটলান্টিসের হারিয়ে যাওয়া

আটলান্টিসের হারিয়ে যাওয়া

By In undefined On 4/7/2020

প্রায় বছর পনেরো আগের কথা। ইয়াহু আর এম এস এন মেসেঞ্জারের খুব চলন, সবাই
 খুলে ফেলেছে একাধিক আইডি, যাকে পাচ্ছে তাকে এড করে ফেলছে। তখন আবার নিজের 
নাম দিয়ে আইডি খোলা ‘আন-কুল’ ছিল। কারো কারো খুন নজরকাড়া নাম, 
ড্রাগন-এনচ্যান্টার, দা-ব্যাকবেঞ্চার এরকম। আবার কেউ আমার মতন নেহায়েত 
হাবলা মার্কা আইডি নিয়ে অনালাইন জগতে ঢুঁ দিয়েছে, যতদুর মনে পড়ে আমার প্রথম
 দুটো আইডি ছিল লিটল-ব্লু-মারমেইড আর সিল্ভার-ব্ল্যাক-রোজ। অনেক ভেবে 
চিন্তে এক প্রিয় বইয়ের নামের সাথে মিল রেখে এক আইডি তৈরি করলাম- 
‘লস্ট-ইন-আটলান্টিস’। এই হারিয়ে যাওয়া রহস্যমন্ডিত শহর আমাকে কিশোর বেলা 
থেকেই খুব টানে যার রেশ আজও কাটেনি। আজকে এই গায়েব হওয়া শহর নিয়েই জানা 
অজানা কিছু গল্প শুনাতে বসেছি।




আটলান্টিসের হারানো শহরের গল্প প্রথম শুরু হয় প্লেটোর একটি লেখায়। তিনি 
এই সৌন্দর্যমন্ডিত শহরের কথা তার লেখনীতে তুলে ধরেন, বলেন সে শহরের 
নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া জনপদের কথা। তার ভাষ্যমতে এগারো হাজার বছর আগে 
আটলান্টিক মহাসাগরে  হারকিউলিসের পিলারের পাদদেশে কোন এক দ্বীপ নগরী ছিল 
আটলান্টিস। তাঁদের ছিল বিপুল নৌ বাহিনী, সুন্দর সমাজব্যবস্থা ও আধুনিক 
জীবনধারা। বলা হয়, সে যুগেই আটলান্টিক জনপদের বাড়ি ছিল কনক্রিটের তৈরি এবং 
যোগাযোগের সুব্যাবস্থা ছিল প্রতিটি ঘরে।

 

প্লেটোর মতে আটলান্টিস তার নৌ সক্ষমতা দিয়ে ইউরোপের অধিকাংশ স্থান জয় 
করেছিল। এথেন্স জয় করার একটি ব্যার্থ প্রয়াসের পর এক দিন ও এক রাতের 
প্রলয়ে এটি সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে যায়, হয়তোবা কোন এক ভয়াল হ্যারিকেন বা
 সুনামির প্রবল আক্রোশে। তলিয়ে যায় আটলান্টিক মহাসাগরের পাদদেশে তার সমস্ত 
রহস্য নিয়ে।

 

বলা হয়ে থাকে, আটলান্টিস বাসিন্দা দেখতে এখনকার মানুষের মতই ছিল। তবে 
পার্থক্য ছিল তাদের দেহের দৈর্ঘ্যে। তারা প্রায় আট থেকে বারো ফুট লম্বা 
দেহের অধিকারী ছিল আর কিনা বাঁচত প্রায় হাজার বছর!

 

অনেকেই দাবি করেন আটলান্টিস প্লেটোর কল্পনা মাত্র। আবার অনেকেই এখনো 
সাগর তলে খুঁজে যাচ্ছেন আটলান্টিসের জনপদের নিদর্শন । আটলান্টিসের খোঁজে 
অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণা আর অনুসন্ধান চলেছে।  অনেক ইতিহাসবিদ আর 
প্রত্নত্ত্ববিদরা বিশ্বাস করতে শুরু করেন আটলান্টিসের অস্তিত্ব কারন মায়া 
পুরাণেও এ নগরীর উল্লেখ রয়েছে।

 

কি মনে হয়? আসলেই কি ছিল আটলান্টিসের কোন অস্তিত্ব? আটলান্টিসের খোঁজে 
পরিচালিত বৈজ্ঞানিক অভিযানের উপপরিচালক মাক্সাইন এশার ১৯৭৩ সালে দাবী করে 
বসেন যে তাঁরা আটলান্টিসের খোঁজ পেয়েছেন। বিশ্বাসীকে শিহরিত করে তিনি বলেন,
 ডুবুরীরা প্লেটোর বর্ণিত স্থানেই মহাসাহরের তলে খুঁজে পেয়েছে এ নগরী, যাতে
 রয়েছে রাস্তা ও কারুকার্য করা কনক্রিটের প্যাঁচানো থাম।

 

এর তিন বছর আগেই ১৯৭০ সালে ডক্টর রে ব্রাউন বাহামার কাছে সমুদ্র তলে 
একটি পিরামিডের সন্ধান পান। তিনি এবং তাঁর সাথের চার জন স্কুবা ড্রাইভার 
সাগর তলে রাস্তার চিহ্ন, ডোম, আয়তাকার ভবন, অপরিচিত কিছু ধাতব যন্ত্রপাতি 
এবং পিরামিড খচিত এবং এক অদ্ভুত ক্রিস্টাল দ্বারা তৈরি ভাস্কর্যের সন্ধান 
পান।পরবর্তীতে ক্রিস্টাল দণ্ডটি পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা আশ্চর্য হয়ে যান 
কারন এটি এর ভেতর দিয়ে গমনকারী শক্তিকে বিবর্ধিত করে।

এর পর ১৯৮০ সালে স্পেনে আট ফুট দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট মানুষের খুলি আবিষ্কৃত 
হয়, যা পুরা পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের অবাক করে দেয়। এক দল বিজ্ঞানী দাবী করতে 
থাকেন এ খুলি আটলান্টিস জনপদের না হয়েই যায় না!




 

বোরিস আস্টারুয়া নামক এক সোভিয়েত পর্তুগালের ৪০০ মাইল দূরে এক ডুবন্ত 
শহরের খোঁজ পান। তিনি বলেন রাস্তার চিহ্ন গুলো দেখে বোঝা যায় সেখানে রেলপথ 
ছিল। তিনি সেখান থেকে একটি ভাস্কর্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।

১৯৭৭ সালে আরিয়া মারশাল তাঁর অভিযানে বাহামা দ্বিপপুঞ্জে দেড়শ ফুট পানির
 নিচে একটি বিশাল পিরামিডের সন্ধান পান যেটি প্রায় ৬৫০ ফুট দীর্ঘ। সবচেয়ে 
ভীতিকর ব্যাপার হচ্ছে এই পিরামিডটির চারপাশের পানি পিরামিডটির উপর থেকে 
উপচে পড়া সাদা উজ্জ্বল পানির ঘূর্ণি দ্বারা প্রভাবিত হয় আর সেটির চারপাশের 
পানির রঙ সবুজ। অথচ একই গভীরতায় অন্যান্য স্থানের পানি কালচে বর্ণের।




এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ভূপৃষ্ঠে কিছু কিছু স্থানে এমন পুরনো ভবন, রাস্তার 
চিহ্ন পাওয়া গেছে যা ঐ স্থানের অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যের চেয়ে 
ভিন্ন। জাদুঘরে সংরক্ষিত অনেক প্রাচীন মানচিত্রেও আটলান্টিসের অবস্থান 
দেখতে পাওয়া যায়। আশ্চর্য হলেও সত্য যে আমেরিকা যাবার পথ অনুসন্ধান করার 
জন্য কলম্বাস যে প্রাচীন গ্রিক ম্যাপ ব্যবহার করেছিলেন তাতেও আটলান্টিস 
নামের ভূখন্ড ছিল।




কল্পপুরির এ শহর বাস্তবে ছিল কি নেই তা দাবি নিয়ে বলতে পারা কঠিন বটে, 
কিন্তু এ শহর ঘিরে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই যুগের পর যুগ। সেই জ্ঞান 
পিপাসাকে পুঁজি করে লেখা হয়েছে আটলান্টিসের উপর বহু বই, খন্ডিত হয়েছে অনেক 
যুক্তি তর্ক, তৈরি হয়েছে রোমকূপে কাঁটা দেয়া চলচিত্র আর পরিচালিত হয়েছে বহু
 অভিযান। আটলান্টিস কিন্তু ধরা দেয়নি এত কিছুর পরেও, হয়ত তার দুয়ার খোলার 
মাহেন্দ্রক্ষণ এখনো হয়ে উঠেনি বলে।

 

ভাবুক,

এডিটর’স ডেস্ক, ModestBD

Continue Shopping Order Now