মার্বেলিংঃ জলের ‘পরে রঙের খেলা

মার্বেলিংঃ জলের ‘পরে রঙের খেলা

By In undefined On 4/7/2020

সে অনেক কাল আগের কথা। দ্বাদশ শতাব্দিতে জাপানি রাজ পরিবারের এক সদস্য 
করল কী, ভুলে কালির কৌটো পানিতে উলটে দিল। আর তাতেই কালি ছড়িয়ে কী সুন্দর 
নকশা হয়ে গেল। পানির পাত্রে কাগজ ডুবিয়ে সেই নকশার ছাপও নেয়া হল।

লোকমুখে শোনা যায় এভাবেই গোড়াপত্তন হয় নতুন এক শিল্পের, যার নাম মার্বেলিং।

জলে কালি ভাসিয়ে নানান নকশার পর কাগজে ছাপ নেয়া, জাপানি ভাষায় এ পদ্ধতির নাম ‘সুমিনাগাশি’। যার অর্থ ‘ink floating’.




পঞ্চদশ শতকে তুরস্ক, পারস্য আর ভারতে এক ধরণের বিশেষ মার্বেলিং হত। এই 
মার্বেলিং এর নাম “এব্রু”। তুর্কি ভাষায় এব্রু মানে ‘cloud art’.

ধারণা করা হয় পানির উপর মেঘের মত রঙ ভেসে বেড়াচ্ছে বলেই এর এমন নামকরণ।

এব্রু আর্টে একটু ঘন এক ধরণের তৈলাক্ত তরল ব্যবহার করা হত। বর্তমানে 
মার্বেলিং এ যে তরল ব্যবহার করা হয়, এব্রু আর্টের তরলটা অনেকটা সেরকমই ছিল।

সে তরলে রঙ ঢেলে নানারকম কারুকাজ। কাঠির খোঁচায় রঙের গতিপথ পালটে কখনো পাতা, কখনো ফুল, কখনো বা মার্বেলের মত নকশা।

সেসময় ক্যালিগ্রাফি, বইয়ের অলংকরণে এব্রু আর্টের বেশ প্রচলন ছিল।

এরপর ষোলো-সতের শতকে মার্বেলিং পরিচিতি পেল ইউরোপে। গুরুমুখী এ বিদ্যা 
গুরু আর শিষ্যের মাঝে চর্চা চলতো খুব গোপনে, খুব কম মানুষই মার্বেলিং 
শিল্পের অলিগলি সম্পর্কে জানতো।

এমনকি গোপনীয়তার স্বার্থে মার্বেলিং বিদ্যার সব স্টেপ সব কর্মীকে জানানো হত
 না। বিভিন্ন স্টেপের জন্য বিভিন্ন কর্মী নিযুক্ত ছিল। তাদের মাঝে থাকতো 
কাঠের পার্টিশন, যাতে কেউ কারো কাজ ঘুনাক্ষরেও না জানতে পারে।

অবশেষে ১৮৫৩ সালে চার্লস উলনাফ মার্বেলিং নিয়ে যাবতীয় লুকোচুরির অবসান 
ঘটালেন। তার বইতে ফাঁস করে দিলেন মার্বেলিং শিল্পের খুঁটিনাটি। সে বই ধীরে 
ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হতে লাগলো।

বই অলংকরণে মার্বেলিং এর কাজ চলতে লাগলো দেদারসে।

এরপর আসলো অটোমেটেড মেশিনের যুগ। বই অলংকরণে মার্বেলিং এর চাহিদা নেমে গেল শূন্যের কোঠায়।

তাতেই কি এ শিল্প বিলুপ্ত হয়ে গেছে? একদম না! এখন মার্বেলিং করা হয় আরো সূক্ষ্ণভাবে।

মার্বেলিং এর পাত্রে থাকে সেলুলোজ তরল। তরলসহ এ পাত্রকে বলা হয় সাইজ।

এবার ডাই তৈরির পালা। পানি, কালার পিগমেন্ট আর বিশেষ এক ধরণের প্রাকৃতিক আঠা দিয়ে তৈরি হয় মার্বেলিং এর ডাই।

এ ডাই সাইজে ঢেলে কখনো কাঠির মত, কখনো বিশাল চিরুনির মত পয়েন্টার দিয়ে চলে মম মাতানো রঙের খেলা।

জলের উপর রঙের ঘূর্ণিতে কখনো তৈরি হয় বিমূর্ত চিত্র, কখনো ফুলেল নকশা। রঙীন
 মোটিফ তৈরি শেষে এবার তা স্থানান্তরের পালা। মার্বেলিং শিল্পী এ পর্যায়ে 
হয় ফেব্রিক ব্যবহার করেন, নতুবা পেপার।

শিল্পীর তৈরি রঙের ঘূর্ণি সাইজ থেকে পেপার অথবা ফেব্রিকে উঠিয়ে নিয়ে শুকাতে দেয়া হয়। ব্যস হয়ে গেল মার্বেলিং!




এ পর্যায়ে এসে পাঠকের নিশ্চয়ই মার্বেলিং করতে খুব মন চাচ্ছে? কিন্তু হাতের 
কাছে সেলুলোজ সল্যুশনই বা কই, রঙই বা কই? পাঠকদের জন্য সবচেয়ে সহজ 
মার্বেলিং এর পথ বাতলে দিচ্ছি। পানিতে নানা রঙের নেইল পলিশ ঢেলে টুথ পিক বা
 পিন দিয়ে মনের মত এঁকে নিন। মন চাইলে সে নকশা নখেও তুলে নিতে পারেন।

কীভাবে কী করবেন বুঝতে পারছেন না? ইউটিউবে নেইল পলিশ মার্বেলিং লিখে সার্চ দিন না! এবার আপনিই মার্বেলিং শিল্পী!




আফিফা আবেদীন

ফিচার রাইটার, ModestBD

Continue Shopping Order Now