যেভাবে আমি আটজন সন্তান কে মেধাবী ও ধর্মভীরু হিসেবে বড় করার চেষ্টা করছি

যেভাবে আমি আটজন সন্তান কে মেধাবী ও ধর্মভীরু হিসেবে বড় করার চেষ্টা করছি

By In undefined On 4/7/2020

সবচেয়ে বড় মেয়ের সাথে আমার পরিচয় হয় ল’ স্কুলে, যে ইংলিশ, আরবী ও মালয়- এ
 তিন ভাষাতেই পারদর্শী একজন মেধাবী ছাত্রী, তিন ধরনের সিলেবাস নিয়ে পড়াশোনা
 করেছে এবং তার ডিসিপ্লনও ছিল চোখে পড়ার মত। যখন সে বলল, তারা আট ভাইবোনই 
কুরআনে হাফিজ এবং বাকিরাও তার মতই, তখন আমি তার অসাধারণ মা কে দেখার জন্য 
উৎসুক হয়ে গেলাম।

যখন ওদের বাড়িতে প্রথম তার মাকে দেখি, 
ধর্মানুরাগী, শান্ত, সিংগাপুরিয়ান মহিলা,এবং বাকি সুন্দর বাচ্চাদের, আমার 
মনে হয়েছিল, এরকম প্রোডাক্টিভ ফ্যামিলি হয়ত আমি আর বাকি জীবনে দেখবনা 
মাশাআল্লাহ।

আমার সেই অসাধারণ মা শরিফাহ মাসতুরার সাক্ষাতকার নেয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। 
নিচে তাঁর আটজন মেধাবী, ধার্মিক বাচ্চা প্রতিপালনের অভিজ্ঞতার সাক্ষাৎকার 
তুলে দিচ্ছি-

  • শুরুতেই আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সাথে
     আমাদের পাঠকদের একটু পরিচয় করানো যাক। A-level শেষ করার পর আপনি একটি 
    দু’বছরের টিচার ট্রেইনিং কোর্স করেছিলেন যেটা ছিল মূলত প্রারম্ভিক শিশু 
    শিক্ষার ওপর। এরপর আপনি ইংরেজী সাহিত্য ও ভাষাতত্ত্বের ওপর UK থেকে 
    ব্যাচেলর ডিগ্রী নেন। এরপর আপনি একটি দু’দিনের ওয়ার্কশপ করেন যেটা হয়ত 
    আপনাকে মেধাবী সন্তান লালনে উৎসাহিত করে।সংক্ষেপে, কোন অভিজ্ঞতা বা ধারণা 
    আপনি শিখেছেন বা প্রয়োগ করেছেন এই মেধাবী সন্তানদের প্রতিপালনে?
  • শরিফাহ মাসতুরাঃ মূলত, আমি দুটো নীতি প্রয়োগ করতাম,*
     আপনার সন্তানকে উদ্দীপ্ত করুন- আপনার শিশুর সেন্সগুলোকে উদ্দীপ্ত করুন, 
    তার দৃষ্টি, শ্রবনশক্তি, ঘ্রাণ, স্বাদ সবকিছু। বিভিন্নভাবে তা করতে পারেন। 
    তার সাথে কথা বলা, গল্প বলা, গল্পের বই পড়া,বিস্কিট গোনা, পেঁয়াজের ঘ্রাণ 
    নেয়া রান্নার সময় ইত্যাদি ইত্যাদি। তার সামনে শিক্ষার উপকরণ রেখে তার আগ্রহ
     জাগান,সবচেয়ে উত্তম হল তার সামনে বই পড়া।

    গর্ভাবস্থা থেকেই আপনার শিশুকে উদ্দীপ্ত করুন কারণ সে ভ্রুণাবস্থা থেকেই আপনাকে শুনতে পায়।* আপনার সন্তানকে নিজের দখলে নিন
     আপনার সময়কে সন্তানের পিছনে ইনভেস্ট করুন। আমি তাদের সাথে ড্রয়িং করতাম, 
    নন টক্সিক রংপেন্সিল দিতাম তাদের আঁকিবুকির জন্য। বাচ্চার সামনে কেবল এক 
    বালতি খেলনা ঢেলে দিয়েই ক্ষান্ত হবেন না, বরং তাদের সাথে বসুন, তাদের 
    ইমাজিনেটিভ ও ক্রিয়েটিভ হতে উৎসাহিত করুন, যেখানে তারা আটকে যাচ্ছে, সেখানে
     সামান্য দেখিয়ে দিলেই তারা সেটা পারবে।মূল ব্যাপারঃ

    এই দুইটা নীতি যদিও আমার ভিত্তি ছিল, কিন্তু আমার কাছে সর্বাধিক 
    গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাদের মাঝে ধার্মিকতা এবং আল্লাহভীতি তৈরি করা। শুধুমাত্র
     মেধা একজন মানুষকে ভাল বা নীতিবান করতে পারেনা, বরং এটি মানুষকে ভুল পথে 
    নিয়ে যেতে পারে এমনকি ধ্বংসও করে দিতে পারে। আর তাই আমি এটিকে ওই দুই 
    নীতিরও ওপরে রেখেছিলাম।সন্তানদের তাকওয়া ও জ্ঞাণ অর্জনের জন্য আপনাকে তাদের
     কুরআন, আরবী ও দ্বীন শিক্ষা দিতে হবে। তাই আমি সবসময় খেয়াল রাখতাম যাতে 
    আমার গর্ভের শিশুটি যথেষ্ট পরিমান কুরআন শুনতে পায়। আর যখনই ওদের সাথে সময় 
    কাটাতাম, কথা বলতাম, কুরআন, হাদিস, নবী সাহাবাদের আমল নিয়ে ধারণা 
    দিতাম।তাদের ইসলামিক আদব কায়দা শেখাতাম।
  • আপনার
     ১২-২৪ বছর বয়সী আটজন সন্তান রয়েছে, যারা প্রত্যেকেই ১৩/১৪ বছরেই হাফিজ 
    মাশাআল্লাহ! এবং তারা সবাই আরবী মিডিয়াম স্কুলে পড়ত। একইসাথে আপনি বাসায় 
    তাদের যুগপথভাবে মালয় ও ব্রিটিশ কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষা দিতেন। কোন 
    জিনিসটা আপনাকে সন্তানদের ব্যাপারে এই অসাধারণ দৃষ্টিভঙ্গী তৈরিতে সাহায্য 
    করে?
  • শরিফাহ
     মাসতুরাঃ আমি এবং আমার বর দুজনেই চেয়েছিলাম সন্তানদের উপযুক্ত কুরআন ও 
    দ্বীনশিক্ষা দিতে। এরজন্য হিফয স্কুলে পড়াটা জরুরী ছিল যেখানে তারা কুরআন, 
    দ্বীন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা আরবীতে শিখতে পারত। একইসময়ে আমরা 
    চেয়েছিলাম, তারা উম্মাহর জন্য কল্যাণকর হোক। আমরা চেয়েছিলাম ওদের দক্ষতা ও 
    জ্ঞাণ বাড়াতে যাতে তারা দক্ষ ও প্রোডাক্টিভ মুসলিম হিসেবে সমাজে অবদান 
    রাখতে পারে। সুতরাং আমাদের বাচ্চারা কুরআন হিফয করা শুরু করে দু’বছর থেকে। 
    একই সময়ে তারা লেখার টেকনিক সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে শুরু করে, এবং 
    পড়তে ভালবাসত।

    স্কুলে যাওয়ার সময় তারা কুরআনের কিছু জুয(পারা) হিফয করে ফেলেছিল এবং আরবী 
    দেখে পড়তে শিখেও গিয়েছিল মাশাআল্লাহ। এমনকি তারা আরবী হরফ এবং সংখ্যাও 
    লিখতে জানত। স্বাভাবিকভাবেই এগুলো তাদের পড়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখে। যখন 
    তারা আরবী স্কুলে ভর্তি হয়, তখন সিংগাপুরের কারীকুলাম অনুযায়ী তারা গ্রেড 
    টু এর ইংলিশ ও ম্যাথ পর্যন্ত জানত।আলহামদুলিল্লাহ, আমার 
    টার্গেট ছিল তাদের মাঝে একটা ভিত তৈরি করে দেয়া যাতে তারা দ্রুত শিখতে 
    পারে। স্কুলের পড়ার সাথে সাথে তারা তাদের নিজেদের গতিতে হিফয করতে থাকত, 
    স্কুলের পড়াটা তাদের জন্য ছিল রিভিশন। এভাবে তারা স্কুলের হিফয প্রোগ্রামের
     বেশ আগেই হিফয করে ফেলেছিল মাশাআল্লাহ।এখানে আমি দুটো প্রয়োজনীয় টিপস দিতে
     চাই-
    প্রথম সন্তানকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করুন– আপনি যেটা সন্তানদের কাছ থেকে অর্জনের আশা করেন, সেটা নিয়ে প্রথম সন্তানের দিকে মনযোগ দিন। পরেরজন বড়কে দেখেই শিখে যাবে।কুরআনকে আপনার জীবনযাত্রার মধ্যমনি করে নিন
     আপনি কখনই এটা আশা করতে পারেন না যে আপনার সন্তান হিফয করবে, যেখানে তার 
    বাবা টিভি দেখবে, এবং মা আইপড টিপবে। প্যারেন্ট যখন কুরআন নিয়ে সময় দেয়, 
    বাচ্চাও তখন কুরআনের প্রতি আগ্রহী হয়।
  • আপনি এবং আপনার সন্তানেরা কি করে এতকিছু ম্যানেজ করত? সাধারণত আপনাদের রুটিন কি ছিল?

  • শরিফাহ
     মাসতুরা আমাদের দিন শুরু হত ফাজর থেকে। সকালের নাস্তা, গোসল এবং পড়ালেখার 
    সময় ছিল ৬-১১টা। মূল জিনিসটা ছিল মাল্টিটাস্কিং। এক সন্তান হয়ত লিখছে, 
    আরেজনকে গোসল করতে পাঠানো, আরেকজনের পোশাক পরিয়ে দেয়া। ব্রেস্টফিড করানোর 
    সময় একজনকে গল্পের বই পড়ে শোনানো, এরকম।যখন সবাই রেডি হয়ে যেত, একেকদিন 
    একেকজন একটি বই দিত আমাকে পড়ে শোনানোর জন্য। তারপর যে যার পড়ার অংশ করতে 
    লেগে যেত। পড়ালেখা শেষ হলে আমি ওদের নিয়ে বিভিন্ন মজার মজার হস্তশিল্প তৈরি
     করতাম।আরেকটি টিপস হল, শেখাটাকে আনন্দময় করে তোলা
     আমি নিজেই তাদের ওয়ার্কশীট বানাতাম। সেটা হত অনেক কালারফুল, যাতে ওরা মজা 
    পায়।১০ঃ৩০ এর দিকে ওদের ক্ষুধা লাগলে কিছু স্ন্যাক্স দিতাম। ফাজর থেকেই ওরা
     যেহেতু মন দিয়ে পড়ালেখা করেছে, তাই এসময় ওরা খানিকটা বিশ্রাম নিত। এসময় 
    আমি আমার নিজের হিফজ নিয়ে বসতাম। এইভাবে আমি আটটা বাচ্চা লালনপালনের 
    পাশাপাশি হিফয করার চেষ্টা করেছি মাশাআল্লাহ। যদিও সময় অনেক বেশি লেগেছে 
    কিন্তু তাতে করে বাচ্চারা আমার অংশটুকুও শিখে ফেলেছিল এবং আমার আগেই হিফয 
    করে ফেলেছিল মাশাআল্লাহ!পুরো আটজন বাচ্চার ক্ষেত্রেই আমি এই রুটিন অনুসরণ 
    করেছি। এতে করে তারা রুটিন মেনে চলায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। আমি বিশ্বাস করি, আপনার বাচ্চার দখল নিন নাহলে ওরাই আপনাকে দখল করবে! তারা হয় আপনাকে বিরক্ত করবে, নয়ত অন্যকে বিরক্ত করবে।

    ছুটির দিনে আমরা পার্কে যেতাম কিংবা পিকনিকে।
  • বাচ্চারা এবং প্যারেন্টরা সাধারণত 
    স্কুল, হোমওয়ার্ক ইত্যাদি নিয়ে দিনের অধিকাংশ সময়েই ব্যস্ত থাকে। কি করে 
    মাত্রাতিরিক্ত না করে বাচ্চাদের সর্বোচ্চ দক্ষতা বের করে আনা যায়?

  • শরিফাহ
     মাসতুরাঃ যখন আপনার বাচ্চা হবে এবং পরিবার বড় হবে, কর্মশক্তিও বাড়বে। আপনি
     ভাবতেই পারবেন না আপনি এত বেশি কাজ করতে পারছেন! আমার যেমনটা ইচ্ছে ছিল, 
    আমার বাচ্চারা কুরআন হিফয করবে আবার স্কুলেও ভাল করবে, আল্লাহ ‘আযযা ওয়া 
    যাল আমার সামর্থ্য সেভাবেই বাড়িয়ে দিয়েছিলেন আলহামদুলিল্লাহ। মা হিসেবে 
    ক্লান্ত হওয়াটা তো অবশ্যই স্বাভাবিক ছিল কিন্তু সেটা কখনই মাত্রাতিরিক্ত 
    ছিল না আলহামদুলিল্লাহ। আর বাচ্চাদের ক্ষেত্রে, তাদের বোঝান দরকার কেন 
    আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, প্যারেন্টদের এটা বোঝানোই কর্তব্য। এটাই ইবাদাহ। 
    নিয়্যতের ওপরই সব নির্ভর করে। আমরা যা করছি সবই আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার 
    জন্য, এটা তাদের একেবারে ছোট থেকেই বোঝাতে হয়। আরেকটা জিনিস হল, 
    প্যারেন্টদের প্রতি অনুগত হতে শিক্ষা দেয়া। যদি বাচ্চা বোঝে যে বাবা-মায়ের 
    অনুগত হলে আল্লহ সন্তুষ্ট হবেন, তাহলে তাকে খুব সহজেই ম্যানেজ করা যায়। 
    সুতরাং বাচ্চারা যখন দেখল, তারা সারাক্ষন যা করছে তার উদ্দেশ্য হল আল্লাহর 
    সন্তুষ্টি, এটা তাদেরকে জীবনের সত্যিকারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা দিল।

    আল্লাহ জানেন, আমি কখনই বাচ্চাদের ওপর কোন উচ্চাকাংখা চাপিয়ে দেইনি একমাত্র
     হিফয করা ও উম্মাহর জন্য কল্যাণকর হওয়া বাদে, ওটাই আমার একমাত্র চাওয়া 
    ছিল।
  • আট বাচ্চার অভিভাবক হিসেবে 
    লক্ষ্যপূরণের যাত্রাটা নিশ্চয়ই সহজ ছিলনা। একটা বিশেষ গুন এখানে 
    অত্যাবশ্যকীয় তাহল অধ্যবসায়। বিশেষ করে কঠিন সময়ে আপনি কি করে ধৈর্য্য 
    ধরেছেন?

  • তওফিক
     সবসময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। আমি সবসময়েই আল্লাহর কাছে দু’আ করতাম যাতে 
    তারা উম্মাহর জন্য কল্যাণকর হয়। সেই দু’আ ও লক্ষ্য আমায় থেমে না যাওয়ার 
    শক্তি দিয়েছিল। তাছাড়া আমি যেহেতু হিফয করার জন্য খুব চেষ্টা করছিলাম, সেটা
     আমাকে বুঝিয়েছিল যে বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও একই ধরণের অধ্যবসায় অবলম্বন 
    প্রয়োজন। কুরআন শেখাটা অধ্যবসায়ের সমার্থক ছিল।সবশেষে,
     আমি সবসময় সব বাচ্চার প্রতি সমান কর্তব্য পালনের চেষ্টা করেছি; যেমন বড়টার
     ক্ষেত্রে, তেমনি ছোটটার ক্ষেত্রে। শেষ সন্তানের ক্ষেত্রে ও একা পড়ে 
    গিয়েছিল। বাকিরা সবাই স্কুলে যাবার কারণে ওর সাথে আমরা আরো বাচ্চাদের 
    শেখাতাম যাতে ও আনন্দ নিয়ে শেখে। মাঝে মাঝে পরিস্থিতির কারণে অনেক বাবা-মা 
    তাদের সন্তানদের সমান সুযোগ দেননা। এটা যাতে না হয় তা আমার মাথায় সবসময় 
    ছিল।
  • কি করে অভিভাবকেরা অধ্যবসায় ও ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারেন?
  • শারিফা মাসতুরাঃ এ ব্যাপারে আমার নিজস্ব মতামত হল, আল্লাহর নৈকট্যই একজন মানুষকে অধ্যবসায় ও ধৈর্য্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
     যদি আপনি সন্তান লালনপালনকে ইবাদাততুল্য মনে না করেন, সেখানে ধৈর্য্যধারণ 
    বা অধ্যবসায়ের প্রয়োজনই নেই। আপনি যদি এটিকে অন্যান্য ইবাদাতের মতই দেখেন, ও
     বিশ্বাস করেন যে, এতে আপনি আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদান পাবেন, এই 
    বিশ্বাসটাই আপনাকে
     অধ্যবসায় ও ধৈর্য্য এনে দেবে। যাদের এধরণের নিয়ত কম কিন্তু পার্থিব চাহিদা
     বেশি, তারা হয়ত বেশিদিন ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারবেন না কিন্তু একটা কথা 
    মাথায় রাখবেন, নেকসন্তানের দু’আ আপনাকে কবরের জীবনে ভাল রাখবে, ব্যস, ধৈর্য্য ধরতে পারার জন্য এটাই যথেষ্ট।
  • পাঠকেরা
     (বিশেষ করে মায়েরা) নিশ্চয়ই জানতে চাইবেন, বাচ্চাদের এই লক্ষ্যার্জনে 
    আপনার বরের ভূমিকা কি ছিল? আপনার লক্ষ্য ও কর্মপন্থায় তিনি কতটা যুক্ত 
    ছিলেন?
  • শরিফাহ
     মাসতুরাঃ আমি এবং আমার বর দুজনেরই বাচ্চাদের ব্যাপারে চাওয়াটা একই ছিল তাই
     একজনের অন্যকে কনভিন্স করতে হয়নি আলহামদুলিল্লাহ। আমি কখনই আমার বরের থেকে
     সমান ভূমিকা আশা করিনি, কারণ তাকে বাইরে যেতে হয় উপার্জনের জন্য। যেটা 
    আমার চাওয়া ছিল, সেটা তিনি সবসময়েই পূরণ করেছেন- আমাকে সাপোর্ট করা, আমার 
    খামতিগুলো পুষিয়ে দেয়া, প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া এবং বাচ্চাদের 
    সাথে সময় কাটানো। এগুলো তিনি সবসময়েই স্বেচ্ছায় করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ।বর
     হিসেবে, তিনি সবসময়েই বাচ্চাদের সাথে এ্যাক্টিভ ছিলেন। ছোটটার সাথে কথা 
    বলা, খেলা করা, একটু বড়জনকে গল্প শোনানো, আরেকজনের পড়া বুঝিয়ে দেয়া, এমনকি 
    বড় সন্তানদের সাথেও খেলা…… এবং সবসময়েই বাচ্চাদের ডেভেলপমেন্টের ব্যাপারে 
    উৎসাহী ছিলেন।সবচেয়ে বড় সাহায্য যেটা ছিল তাহল, তিনি সবসময়েই বাচ্চাদের 
    পরিশ্রম করার ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন। এবং তিনি একজন শিক্ষক হিসেবেও ভূমিকা
     পালন করেছেন। যখন আমি ব্যস্ত থাকতাম, বাচ্চাদের হিফয তিনিই চেক করতেন, 
    ওদের পড়া দেখিয়ে দিতেন। আমার ভূমিকা কখনই একতরফা ছিলনা। বাচ্চাদের ব্যাপারে
     আমরা সবসময় একে অন্যকে সাহায্য করতাম।

    আরেকটা ব্যাপার না বললেই নয়। তিনি কখনও ঘরের কাজকে অসম্মানজনক মনে করতেন না
     বাচ্চার ন্যাপি বদলানো, গোসল করানো, খাওয়ানো -এগুলো তিনি 
    স্বতঃস্ফুর্তভাবেই করতেন।আর তিনি ছিলেন সবসময় আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। যদি
     দেখতাম বাচ্চারা আমাকে সাহায্য করছেনা বা আমার কথা শুনছেনা, তখন আমি 
    তাদেরকে ওদের বাবার কাছে রেফার করতাম। বাবার একটু কথা বললেই কাজ হয়ে যেত। 
    পরিবারের কর্তা হিসেবে এটা খুব দরকার যে বাচ্চারা তাদের বাবাকে সবচেয়ে 
    শ্রদ্ধা করবে।যখন শেখার ব্যাপারটা বাড়ির বাইরে হত, তখন আমি আমার বরের ওপরই নির্ভর 
    করতাম। মাসজিদে যাওয়া বা ইসলামিক হালাকাতে যোগ দেয়া, এগুলো তিনিই সামলাতেন।
     একটা সুন্দর স্মৃতি এখানে মনে পড়ছে, তিনি Most Dedicated Father এর 
    পুরস্কার পেয়েছিলেন। বাচ্চাদের টিচার খেয়াল করেছিলেন, তিনি পুরো সেমেস্টার 
    বাচ্চাদের ক্লাস চলাকালীন বাইরে অপেক্ষা করতেন! মাশাআল্লাহআমার বর কখনই এই জার্নিতে আমার সাপোর্টার কিংবা সঙ্গী হতে পারতেন না যদি
     আমরা একই দৃষ্টিভঙ্গীর না হতাম। যখন আমাদের কোন ব্যাপারে মতের অমিল হত, 
    সেটা নিয়ে কখনই আমরা বাচ্চাদের সামনে আলোচনা করতাম না। বাচ্চারা সবসময়েই 
    আমাদের একতাটাই দেখত। এটা একটা বাচ্চার জন্য খুব জরুরী যে অভিভাবকের কাছ 
    থেকে একইরকম ডিসিশন পাওয়া যাতে তারা কখনও এটা আশা করতে না পারে যে, অন্য 
    জনের কাছে গেলে সিদ্ধান্তটা পাল্টাতে পারে।
  • আপনাদের
     প্রত্যেক সন্তানেরই বিশেষ কোন না কোন বিষয়ে পারদর্শীতা রয়েছে মাশাআল্লাহ! 
    তাদের শখ সম্পর্কে বলুন। এবং আমাদের এটাও জানান যে, আপনি কিভাবে নিশ্চিত 
    করতেন যাতে অবসরে ওরা প্রোডাক্টিভ কিছুতে ব্যস্ত থাকে?
  • শরিফাহ
     মাসতুরাঃ সত্যি বলতে কি, আমরা ওদের শখ নিয়ে ভাবিনি। আমরা এটুকু ভেবেছিলাম 
    যে, বাচ্চাদের টিভি ছাড়া বড় করব। সেজন্য তারা অবসর যাতে উপভোগ করে সেজন্য 
    আমরা নানারকম ক্রিয়েটিভ কাজে ব্যস্ত রাখতাম ওদের।প্রথমদিকে 
    আমরা বাচ্চাদের আঠা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস লাগিয়ে খেলনা বানানো, এগুলো 
    শেখাতাম। এরপর পেইন্টিং, মৃৎশিল্প, আশেপাশের নানা জিনিস দিয়ে নানাকিছু তৈরি
     করা, অরিগ্যামী, কাগজের ফুল, কার্ড, পুতির কাজ ইত্যাদি নানাকিছু তৈরি 
    করতাম। আমরা নিজেরাই নিজেদের গল্পের বই তৈরি করতাম এবং নিজেরাই তাতে রঙ 
    করতাম ও কভার পেইজ করতাম। একেবারে কিছু মেয়েলী জিনিস ছাড়া, এগুলো ছেলেমেয়ে 
    উভয়েই করত। মেয়েদের আমি কিছু সেলাই শিখিয়েছিলাম। এরপর এরা যখন টিনএজ বয়সে 
    পৌঁছাল, তারা সেলাই মেশিন চালাতে শিখে গেল এবং সুন্দর সুন্দর জিনিস বানাতে 
    পারত, নিজেদের পর্দা নিজেরাই করতে পারত, এবং নিজেরা একটা ব্যবসা খুলেছিল 
    যেখানে তারা নিজেদের তৈরি হাতব্যাগ ও চুলের ব্যান্ড বিক্রি করত; রিয়াদের 
    একটি মেলায় তারা সেগুলো প্রদর্শন করেছিল এবং লোকেরা পছন্দ করেছিল 
    মাশাআল্লাহ।এই পর্যায়ে, তারা আরও অনেককিছুই শিখেছিল যেমন ক্রুশের কাজ, 
    বেকিং এসব। আমার মেয়েদের মধ্যে একজন হল শিল্পী, তার রংয়ের প্রতি ভালবাসার 
    কারনে মেকআপ এও সে দক্ষ। আরেকজন আর্কিটেকচারে ইন্টারেস্টেড এবং কাগজ কেটে 
    বিভিন্ন বিল্ডিং বানাতে ভালবাসে। এগুলো আমার আয়ত্বে নেই, ইউটিউব বেশ কাজে 
    দিয়েছিল।এখানে আরেকটা ব্যাপার বলব, তাদের যে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা, সেটা 
    জন্ম থেকেই যে ক্রিয়েটিভিটির প্রতি ইন্টারেস্ট সেটা না, বরং টিভি ছাড়া বড় 
    হবার কারণে তারা নিজেদের দক্ষতার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছিল। এছাড়া
     বাড়তি আনন্দ পেয়েছিল তারা এটা বুঝে, যে,দক্ষতা একজন মানুষকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করে। ছেলেদেরও কিছু শখ আছে যেমন- ফটোগ্রাফী, গ্রা
    ফিটি আর্ট, টি-শার্ট পেইন্টিং এবং তারা সবাই ফুটবলে দক্ষ মাশাআল্লাহ।

  • আপনি একজন শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত 
    ছিলেন এবং বাচ্চা হবার পর আপনি জব ছেড়ে দেন এবং সন্তান লালনপালনে পূর্ণ 
    মনোনিবেশ করেন। আপনার শেষ সন্তান হিফয করার পর আপনিও হিফয করেন মাশাআল্লাহ!
     এরপর আপনি রিয়াদে অবস্থিত কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজীর শিক্ষক হিসেবে 
    যোগদান করেন, একই সময়ে ইংলিশ টিচিং ডিপ্লোমা কোর্স (DELTA) করেন এবং এখন 
    আপনি প্রিন্স সুলতান ইউনিভার্সিটির টিচার। এত বছর পর আবার নিজের ক্যারিয়ার ও
     শিক্ষা নিয়ে ভাবতে কোন বিষয়টি আপনাকে উৎসাহ দিয়েছে?

  • শরিফাহ
     মুসতারীঃ দুর্ভাগ্যবশত, এটা এত সুন্দর করে হয়নি যেভাবে আপনি বলছেন। আমার 
    জব এ ফিরে যাবার পিছনে ক্যারিয়ারটা মোটিভেশন ছিলনা দু্’টো কারণে- প্রথমত 
    আমি ব্যস্ত এবং টিচিং মম হিসেবে বেশ হ্যাপী ছিলাম। দ্বিতীয়ত, এই ১৯ বছরে 
    আমি কখনই নিজের বাড়িতে শিক্ষকতা ছেড়ে দেইনি।১৯৯৮ এ, আমার 
    পঞ্চম সন্তান যখন হোম-স্কুল প্রোগ্রাম আরম্ভ করে, তখন কিছু ফ্রেন্ড এর 
    অনুরোধে তাদের বাচ্চাদেরও আমি পড়ানো শুরু করি। তারা আমার টিচিং মেথড অনুসরণ
     করতে চাইত। আমরা বাসার ঘরগুলোতে ২জনের জন্য একজন টিচার- এই অনুপাতে 
    বাচ্চাদের পড়ানো শুরু করলাম এবং ফলাফল ছিল খুবই ভাল মাশাআল্লাহ! স্কুলের 
    পরিধি বাড়তে লাগল এবং অন্যান্য অভিভাবকরাও তাদের বাচ্চাদের নেয়ার জন্য যখন 
    অনুরোধ করতে লাগলেন, তখন আমরা কিছু ফি নির্ধারন করলাম। এটা বাচ্চাদের 
    নৈপূণ্য ধরে রাখায় সাফল্য অর্জন করেছিল মাশাআল্লাহ। আমরা এটার নাম 
    দিয়েছিলাম, দার আল কুরআন। আমি ছিলাম এটার টিচার, ট্রেইনার ও হেড মাস্টার 
    (এক বাচ্চা আমাকে এই নামে ডাকত)। যেসব অভিভাবক আমার কাছে টিচিং মেথড শিখতে 
    আসতেন, তারাই এখানে টিচার হিসেবে কাজ করতেন। সবার ডেডিকেশন এর কারণেই 
    সাফল্য এসেছিল মাশাআল্লাহ।বাচ্চারা কোর্স কমপ্লিট করে যখন স্কুলে যাওয়া 
    আরম্ভ করল, তখন তাদের মা-দেরও বাধ্য হয়ে স্কুল ছাড়তে হল। আমি তখন পাঁচ বছর 
    একাই স্কুল চালিয়ে নিলাম যতদিন না আমাদের শেষ সন্তানটি সস্কুলে ভর্তি 
    হচ্ছে। পঞ্চম বছরটা আমার জন্য খুবই আনন্দের ছিল, এই বছর আমার সবচেয়ে বড় 
    সন্তান আমার সাথে স্কুলে টিচার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিল। এর ঠিক পরের 
    বছর আমি ইউনিভার্সিটিতে টিচার হিসেবে জয়েন করি।আমার সব সন্তান স্কুলে যাওয়া
     শুরু করলে, আমি জব করা শুরু করি কারণ এটা আমার বাসার খুব কাছেই ছিল এবং 
    আমি ওদের স্কুলে দিয়ে জবে যেতাম আবার স্কুল থেকে ফেরার আগেই বাসায় ফিরতে 
    পারতাম। আবারও বলছি, ক্যারিয়ার নিয়ে কোন চিন্তা আমার মাথায় ছিলই না।
    আর ওই DELTA কোর্সটা মূলত জবের খাতিরেই করতে হয়েছিল। এই কোর্সটা আমার 
    জন্য শারীরিক ও মানসিক উভয়ভাবেই কষ্টকর ছিল, কারণ একইসাথে একটা পরিবার 
    চালিয়ে জব ও পড়াশোনা করাটা কঠিন। জীবনে প্রথমবার আমি অসুখী ছিলাম বর ও 
    বাচ্চাদের ঠিকমত সময় দিতে পারতাম না বলে। চাকরী আর পড়াশোনা আমার অধিকাংশ 
    সময় আর এনার্জী নিয়ে নিত। যাহোক, ওই কোর্সটা দু’বছরেই কমপ্লিট করতে 
    পেরেছিলাম আলহামদুলিল্লাহ।কোর্সটা করার পর আমি আর কোন স্টাডি করতে চাইনি। কারণ আমি আর ওভাবে 
    পরিবারের প্রতি অবহেলা করতে চাইছিলাম না। এখন আমি প্রিন্স সুলতান 
    ইউনিভার্সিটির টিচার। কারণ এখানে আমি মাতৃত্ব ও জব দুটোকেই ভালভাবে সামলাতে
     পারি আলহামদুলিল্লাহ।
  • একটা মাহফিলে আপনার বলা একটা সুগভীর উক্তি আমার এইমুহূর্তে মনে পড়ছে, “একটি শিশুর শিক্ষা শুরু হয় এর জন্মের ২০ বছর আগে থেকে“- অনুগ্রহ করে এটা আমাদের পাঠকদের কাছে ব্যাখা করবেন কি?

  • শরিফাহ মুসতারীঃ খুব সাধারণ। আপনি যদি আপনার সন্তানকে শেখাতে চান, তাহলে আগে আপনাকে জ্ঞাণার্জন করতে হবে। আপনাদের মাঝে কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে কিংবা এই স্টেজে আপনার জন্য এটা করা খুব কঠিন, কিন্তু শেখার জন্য বা নিজেকে সংশোধনের জন্য আসলে কখনই দেরি বলে কিছু নেই
     তাছাড়া আপনার সুযোগ আছে আপনার সন্তানকে যোগ্য অভিভাবক হিসেবে গড়ে তুলবার। 
    আপনার সন্তানকে ন্যায়বান অভিভাবক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এখনই জ্ঞাণার্জন 
    শুরু করুন। সন্তানকে নজরকাড়া ইউনিভার্সিটি ডিগ্রি কিংবা আকর্ষনীয় উপার্জনের
     গুরুত্ব না বুঝিয়ে বরং তাকে উপযুক্ত দ্বীনশিক্ষা দিন এবং এটা নিশ্চিত 
    করুন, যাতে তারা কুরআন শেখে। উপযুক্ত দ্বীনশিক্ষার অর্থ সেটা সম্পর্কে 
    জানা, এবং সেটা নিয়ে বাঁচা। তাদের ধার্মিক প্যারেন্ট হিসেবে গড়ে তুলুন।
  • আপনি এবং আপনার বর কি বিশেষ কোন আধ্যাত্মিক রুটিন অনুসরণ করেন যাতে আপনাদের দিনে বারাকাহ আসে?

  • শরিফাহ
     মুসতারীঃ নাহ, তেমন নির্দিষ্ট কিছু করিনা আমরা। কোন একটা বইয়ে পড়েছিলাম, 
    ‘আপনার সন্তান সেটা করবেনা, যেটা আপনি তাকে করতে বলেন; বরং সে সেটাই করবে 
    যেটা আপনি করেন।’ অন্য কথায়, আপনার নিজেকে ঠিক সেরকম উদাহরণ হতে হবে যেমনটা
     আপনার সন্তানকে দেখতে চান। আপনার বাবামায়ের বাধ্য ও ধার্মিক সন্তান হিসেবে
     নিজেকে গড়ে তুলুন, আপনার সন্তানও সেটাই করবে। সুতরাং আপনার সন্তানের জন্য একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হোন, বিশেষ করে ইবাদাহের ক্ষেত্রে।
  • সবশেষে, যারা কিছুদিনের মধ্যেই অভিভাবক হতে যাচ্ছেন, তাদের ব্যাপারে আপনার উপদেশ কি?

শরিফাহ
 মুসতারীঃ আমার উপদেশ হল, উপরের পুরো লেখাটি পড়ুন, এবং যেটা আপনার কাছে 
সঠিক মনে হয় সেটাই করুন। আল্লাহ আপনার সাধ্যের অতিরিক্ত চাপাতে চাননা। এটা 
ছিল আমার যাত্রা এবং আমি এখনও পথেই রয়েছি। কেবল কিছু পথ পাড়ি দিয়েছি। যারা 
এই লেখাটা পড়ছেন, আপনারা নিজেরাই নিজের পথ বেছে নিন এবং আমার দু’আ থাকবে, 
সেটা যে পথই হোক না কেন তার উদ্দেশ্য যেন ধার্মিক ও মুসলিম উম্মাহের জন্য 
কল্যাণকর হিসেবে গড়ে তোলাটাই হয়। সেই সাথে এটাও মনে রাখবেন, প্রকৃত জ্ঞাণ 
ছাড়া সে উম্মাহের জন্য কল্যাণকর হতে পারবেনা।– শারিফা 
মাস্তুরা আল জিফরি পেশায় একজন ইংরেজী অধ্যাপিকা। বর্তমানে তিনি সৌদির 
রিয়াদে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত আছেন। জনপ্রিয় 
Islamic Website প্রোডাকটিভ মুসলিম এ দেয়া তার এই সাক্ষাৎকারটি বাংলায় 
অনুবাদ করেছেন Fariza Binte Bulbul

Continue Shopping Order Now