শব্দে কথায় যত বিভ্রাট!

এ কৌতুকটা নিশ্চয়ই সবাই শুনে থাকবেন-

এক প্রবাসী দেশে ফিরেছে ছুটি কাটাতে। উৎসুক জনতা এ প্রশ্ন সে প্রশ্নের পর 

জিজ্ঞেস করে বসলো, “বিদেশে গিয়ে তোমার ইংরেজি বলতে অসুবিধে হয়নি?”

প্রবাসী জবাব দিলেন, “একদম না! তবে যারা আমার ইংরেজি শুনেছিলো, তাদের বুঝতে বেশ অসুবিধে হয়েছে!”

কৌতুকের সেই প্রবাসীর মত আমরাও লেখালেখি কিংবা কথায় এমনকিছু বলে ফেলি, যা 

বলতে আমাদের অসুবিধা হয়না মোটেও, তবে কথার মর্মোদ্ধার করতে গিয়ে শ্রোতার 

অবস্থা হয়ে যায় শোচনীয়।

শব্দের বানানে বা উচ্চারণে একটু এদিক ওদিক হলেই অর্থগুলো আমূল পালটে যায়। 

কখনো বলতে গিয়ে, কখনো বা লিখতে গিয়ে আমরা কাছাকাছি কিছু শব্দ গুলিয়ে ফেলি। 

আজ আলোচনা হবে এমনই কিছু গুলিয়ে যাওয়া বাংলা, ইংরেজি শব্দ নিয়ে।

রিপ্লাই যখন রিপ্লে

মেসেজ দিলে রিপ্লে পাওয়া যায় না- এমন অভিযোগ আজকাল প্রায় সবার।

কিন্তু চাইলেই কি মেসেজের রিপ্লে দেয়া যায়? রিপ্লে (replay) মানে যে জবাব দেয়া নয়, রিপ্লে অর্থ পুনরাবৃত্তি করা।

জবাব দেয়া অর্থে আমরা দেদারসে ‘রিপ্লে’ শব্দটা ব্যবহার করে যাচ্ছি। অথচ জবাব দেয়া অর্থাৎ ‘reply’ এর উচ্চারণ হবে ‘রিপ্লাই’।

তাই আর নয় রিপ্লের আশা, এখন থেকে মেসেজ দিয়ে অপেক্ষা করুন ‘রিপ্লাই’ এর জন্য।



                 

ভুল স্বীকার, ভুলের শিকার

‘স্বীকার’ আর ‘শিকার’- লেখালেখির জগতে সবচাইতে ভুল বোঝাবুঝি মনে হয় এ দু’টো শব্দ নিয়েই হয়। অথচ দু’টো শব্দের অর্থ কিন্তু একদম ভিন্ন।

মনে রাখতে এভাবে বলা যেতে পারে, আপনি যখন ভিক্টিম, তখন ব্যবহার করুন 

‘শিকার’ শব্দটি। আর আপনি যখন অপরাধী, তখন ব্যবহার করুন ‘স্বীকার’ শব্দটি।

গুলিয়ে যাচ্ছে? আরেকটু খোলাসা করে বলা যাক।

ধরুন, দোকানদার ভুল করে আপনাকে ডেইট এক্সপায়ার্ড প্রোডাক্ট গছিয়ে দিয়েছে।

আপনি তখন ভিক্টিম, অর্থাৎ দোকানদারের ‘ভুলের শিকার’।

আর দোকানদার অপরাধী, কাজেই তাকে ‘ভুল স্বীকার’ করতে হবে।


উদ্দেশ্যে নাকি উদ্দেশে

কোনটা সঠিক? উদ্দেশ্যে নাকি উদ্দেশে? উত্তর হল, দুটোই সঠিক। তবে অর্থ একদম ভিন্ন।

ধরুন, আপনি অফিসের বসকে কিছু বলছেন।

তখন সেটা হবে বসের ‘উদ্দেশ্যে’ কিছু বলা।

এবার মনে করুন, আপনি বসের বাড়ি যাচ্ছেন।

তখন সেটা হবে, বসের বাড়ির ‘উদ্দেশে’ যাত্রা করা।

তারমানে যখন কাউকে কিছু বলছেন তখন তার ‘উদ্দেশে’ নয়, তার ‘উদ্দেশ্যে’ বলছেন।

আর যখন কোনো স্থানে যাচ্ছেন, তখন সেই স্থানের ‘উদ্দেশ্যে’ নয়, ‘উদ্দেশে’ যাত্রা করছেন।

কনফিডেন্স বনাম কনফিডেন্ট

এ আরেক বিভ্রান্তিকর শব্দযুগল। শব্দ দু’টো আমরা ধুমসে ব্যবহার করে 

যাচ্ছি। তবে দুঃখের ব্যাপাত কনফিডেন্সের স্থলে বলছি ‘কনফিডেন্ট’ আর 

কনফিডেন্টের বদলে বলছি ‘কনফিডেন্স’।

বিশেষ করে রিয়েলিটি শো তে প্রতিযোগিদের অহরহ বলতে শোনা যায়,

“আমার ভেতর কনফিডেন্ট আছে। আমি ভীষণ কনফিডেন্স”

আর নয় ভুলের রাজ্যে বসবাস। এ বেলায় ভালমত মনে গেঁথে নিন-

কনফিডেন্স অর্থ আত্মবিশ্বাস

কনফিডেন্ট অর্থ আত্মবিশ্বাসী

কাজেই কখনো যদি রিয়েলিটি শো এর বক্তাদের মত বলতেই হয়, তবে বলুন-

“আমার ভেতর ‘কনফিডেন্স’ (আত্মবিশ্বাস) আছে। আমি ভীষণ কনফিডেন্ট (আত্মবিশ্বাসী)।”

এ চারজোড়া শব্দের মাঝেই আজকের আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকুক। নয়ত এত 

বিভ্রান্তির মারপ্যাঁচে জানা শব্দও অজানা ঠেকবে শেষমেষ! আরো কিছু প্রচলিত 

ভুল নিয়ে হাজির হওয়া যাবে অন্য কোনোদিন!


এই লেখিকার আরও লেখা পড়তে

উপহার হোক মনের মত


Disclaimer: সমস্ত আর্টিকেল এর স্বত্তাধিকার মডেস্ট কালেকশন এর। এই সাইট থেকে কপি পেস্ট করে নিজের প্রোফাইল বা পেইজে দেয়ার অনুমতি আমরা দিচ্ছিনা। আপনি অবশ্যই লেখাটা শেয়ার করতে পারেন আমাদের ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি লিংক শেয়ার করে। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।





Continue Shopping Order Now