সৌন্দর্য্যের সেকাল একাল

সৌন্দর্য্যের সেকাল একাল

সৌন্দর্য্যের সেকাল একাল

By In undefined On 4/7/2020

যুগে যুগে যে বিষয়টি পরম আরাধ্যের, তা হল সৌন্দর্য্য। এযুগে ফর্সা ত্বক আর সাইজ জিরো ফিগারের চাহিদার প্রেক্ষিতে রঙ ফর্সাকারি ক্রিম আর জিম, পার্লারের জয়জয়কার। রুপের আবেদন তো সবসময়ই ছিল। কিন্তু আগেও কি এরকম ফর্সা সুন্দরীর চল ছিল? সৌন্দর্য্যের ধারণা কেমন ছিল?


পৃথিবীবিখ্যাত সুন্দরীদের একজন হলেন ক্লিওপেট্রা। দু’জন রোমান বীর জুলিয়াস সিজার ও মার্ক এ্যান্টনি তার রুপে বশীভূত হয়েছিলেন। তার উদ্ভাবিত রুপচর্চা বর্তমান কালেও চলে আসছে। কিন্তু তিনি দেখতে কেমন ছিলেন? কি ছিল তার রুপের রহস্য?


ক্লিওপেট্রার রাজত্বের সময়কার বেশ কিছু মুদ্রা পাওয়া যায় যাতে তার প্রতিকৃতি অঙ্কিত আছে। এগুলো বিশ্লেষণ করে ঐতিহাসিকরা যা বলেন, তার মুখ ছিল অনেকটা চৌকো আকৃতির, ধারালো চিবুক, পাতলা ঠোট, আর তীক্ষ দৃষ্টি সম্পন্ন চোখ। গায়ের রঙ ফর্সা ছিলনা মোটেই। এখনকার প্লাম্প লিপ আর ফেয়ার স্কিনের যুগের সাথে মেলেনা কিন্তু। তবে যেটা তাকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসিয়েছিল, তা হল তার কণ্ঠস্বর। তার কন্ঠ এতই মিষ্টি ছিল যেন মনে হত কোন বাদ্যযন্ত্রের তার রিনরিন করে সুর তুলছে। আর সেইসাথে বুদ্ধিমত্তা ও পরিস্থিতি নিজের আয়ত্বে নেয়ার ক্ষমতা। যেকোন পরিস্থিতি নিজের মতের অনুকূলে নিয়ে আসার ব্যাপারে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। আর তাই তার সৌন্দর্য্য ইতিহাসে এমন অক্ষয় হয়ে আছে। বস্তুত বাহ্যিক সৌন্দর্য্যের বড় কিছু ছিল তার ব্যাক্তিত্ব। যা তার সৌন্দর্য্যকে নতুন মাত্রা দেয়।

ওপরের ছবিটি পারস্যের প্রিন্সেস কাজারের। কাজার রাজবংশের শাসনকাল ছিল ১৭৮৫ সাল থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত। ইনি ইতিহাসের সেই মারাত্মক সুন্দরী যার প্রেমে ১৩জন যুবক আত্মহত্যা করেছিল। শুনতে অবাক লাগলেও সেকালের ছবিগুলো দেখলে ও ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এমনটাই পাওয়া যায়। সেযুগে মেয়েদের সৌন্দর্য্যের প্রতীক ছিল স্থুল স্বাস্থ্য, খাটো গড়ন, মুখে কিছুটা গোঁফের রেখা, রোমশ শরীর। যাদের গায়ে লোম ছিলনা, তারা নাকি পাতলা করে মুখে গোঁফের রেখা টানত!



বেশিদূর যেতে হবেনা, আমাদের দেশেও এই পাঁচ/ছ দশকে সৌন্দর্য্যের সংজ্ঞা কত বদলে গেছে। আমাদের দাদি নানিদের যুগে ছোটখাট পুতুলের মত গড়নকে রুপবতী বলা হত। গয়না দিয়ে ঢেকে দেয়া হত ছোট ছোট বউদের। আর লম্বা মেয়েদের বলা হত ঢ্যাঙ্গা। চিনাদের পা ছোট রাখার অমানবিক প্রচেষ্টার কথা কে না জানে। আর এখন লম্বায় কম হলে কত মেয়ের বিয়ে আটকে যায়!


শাবানা, ববিতার আমলের সিনেমাগুলো দেখুন, ভ্রু এত সরু করে চাছা হত, আবার এখন মোটা ভ্রুর চল। সাইজ জিরো ফিগারের কনসেপ্ট তো কেবল এলো।


উপমহাদেশে ফর্সা ত্বকের পেছনে দুর্বলতার অন্যতম কারণ হল দুশো বছরের দাসত্ব। আমাদের সুপিরিয়র মেম সাহেবরা ছিল সাদা। আর তাই সাদাদের কাছাকাছি হতে পারলে আমরা বর্তে যাই।

উদাহরণ টানতে গেলে লেখা অনেক বড় হয়ে যাবে। তবে সবচেয়ে বড় সত্য হল, সৌন্দর্য্যের ধারণা আপেক্ষিক। ব্যাক্তির রুচির ওপর সৌন্দর্য্য নির্ভর করে।


তবে শারিরীক সৌন্দর্য্য যেখানে কালের প্রবাহে ফিকে হয়ে আসে; তখন অন্তর্নিহিত রুপ না থাকলে সৌন্দর্য্য ধরে রাখা সম্ভব কি?




***এই সাইটের লেখার কপিরাইট মডেস্ট কালেকশন এর। লেখা আপনি অবশ্যই শেয়ার করতে পারেন, সেটা আমাদের সাইট থেকে লিংক শেয়ারের মাধ্যমে। কিন্তু কপি পেস্ট করে নিজের প্রোফাইল বা পেইজে দেয়ার অনুমতি আমরা দিচ্ছিনা। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

article

Continue Shopping Order Now